
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং বায়ুদূষণ হ্রাসে বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই এমন মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। তিনি বলেন, সরকারের ঘোষিত ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবেশগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি নিরাপদ ও সবুজ বাংলাদেশ পাবে।
আজ রোজ বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে কাঁচপুর সেতুর পূর্ব ঢালে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়, যা সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও নগরায়ণের ফলে সবুজের পরিমাণ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন বৃদ্ধি শহরের তাপমাত্রা কমানো, বায়ুর মান উন্নয়ন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ প্রেক্ষাপটে সরকারের বৃহৎ পরিসরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে এমপি মান্নান কাঁচপুর সেতু ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা টিকিট কাউন্টার ও ফুটপাতের দোকানপাট যানজটের অন্যতম কারণ। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তিনি আরও বলেন, হাইওয়ে পুলিশ কার্যকর ভূমিকা না রাখলে স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে থাকা পরিবহন টিকিট কাউন্টারগুলো দ্রুত নির্মাণাধীন বাস টার্মিনালে স্থানান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে এমপি মান্নান স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে রোপিত গাছগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “গাছ লাগানোই শেষ নয়, এগুলো রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীরা, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়িয়ে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে একটি গণআন্দোলনে রূপ দিতে পারলে দেশের পরিবেশগত সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে।