“চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে”; ওসি মহিবুল্লাহর কঠোর অভিযানে বদলাচ্ছে সোনারগাঁয়ের চিত্র
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় মাদকবিরোধী জোরালো অভিযানের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্রগুলো। সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিবুল্লাহর নেতৃত্বে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তরুণ প্রজন্মের জন্য মাদককে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে ওসি মহিবুল্লাহ ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখ থেকে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন। তার এই অবস্থানের ফলে উপজেলাজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এক সময় যেখানে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা হতো, বর্তমানে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পরিচালিত অভিযানে ৭০টির অধিক মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ১০৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১০০ কেজির বেশি গাঁজা, ২০ হাজারের বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় মদ ও ফেনসিডিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে দিনের বেলাতেও মাদক বিক্রি হতো এবং সন্ধ্যার পর চলাচল ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পুলিশের প্রতি আস্থাও বেড়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, সোনারগাঁও উপজেলার দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান সমস্যা ছিল মাদক। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি আজাহারুল ইসলাম মান্নান ও সাধারণ মানুষ একযোগে এ সমস্যার সমাধান দাবি করে আসছিলেন। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বর্তমান থানা প্রশাসনের ভূমিকা ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ওসি মহিবুল্লাহ বলেন, “মাদক ব্যবসা বন্ধ করা এবং একটি মাদকমুক্ত সোনারগাঁও গড়ে তোলা আমার প্রধান লক্ষ্য। মাদকের বিরুদ্ধে আমি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। যেখান থেকেই অভিযোগ আসছে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঝুঁকি থাকলেও আমরা পিছপা হচ্ছি না।”
তিনি আরও বলেন, “এখানে একসময় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা পরিচালিত হতো। নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এতে জড়িত ছিল। তবে ধারাবাহিক অভিযানের ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। যতদিন দায়িত্বে থাকব, মাদকের বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে সোনারগাঁও উপজেলাকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।